শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ইক্ রা অটিজম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ইক্ রা অটিজম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

ইকরা প্রতিদিন ডেক্স  : নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার সদরে অবস্থিত  প্রতিবন্ধী শিশুর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে, ইকরা অটিজম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ।

      অত্র বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে ৫টি ইউনিয়নের অন্তত ৩০ গ্রামের প্রায় ২ শত প্রতিবন্ধী শিশু।
উপজেলা সদরের  হাটধলা গ্রামে ২০০৫ সালে  প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র নামে একটি স্থানীয় এনজিও স্থাপিত হয়। এনজিওটি  ২০০৬ সালে ইকরা অটিজম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় স্থাপন করে।  কেউ হাঁটতে পারে, কেউ পারে না। আবার কেউ খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটে, কারো হাত বাঁকা, কারো পা বাঁকা আবার কেউ ঠিক মতো কথাও বলতে পারে না। এসবের পরেও আরো কয়েকজন আছে যারা মা বাবার কোলে আসা যাওয়া করে। এমনি সব শারীরিক অঙ্গের আঙ্গিগতা না থাকা প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে।

সরেজমিনে  বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, ৩টি শ্রেণী কক্ষে এসব প্রতিবন্ধীদের নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে পাঠদান চলছে। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশুনায় নয়, লেখাপড়ার পাশাপশি তাদের সাধ্যমত শরীরচর্চা ও বিনোদনমূলক ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বিদ্যালয়টির  প্রধান শিক্ষক  পান্না আক্তার  দৈনিক ইকরা  প্রতিদিনকে জানান, প্রতিদিন সকাল ১০ টা হতে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট ১৫০ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। মোট ১১ জন শিক্ষক ও ১২  জন কর্মচারীর নিরলস প্রচেষ্ঠায় এই সব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত হচ্ছে। দিন দিন এ বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছেই। বেসরকারি সংস্থা প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র কার্যালয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালনা করতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুজ্জামান জানান, স্থায়ী ভাবে বিদ্যালয়টি স্থাপনের জন্য জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কয়েক জন শিক্ষার্থীর মা জানান, তাদের ছেলে-মেয়েরা এ বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় স্পষ্ট কথা ও চলাফেরা করতে পারতো না। এখন তারা স্পষ্টভাবে কথা বলতে ও আগের চেয়ে ভালো চলাফেরা করতে পারছে। প্রাথমিক অবস্থায় তারা কিছুই বুঝত না এবং লিখতেও পারত না। এখন তারা ইশারায় বলতে ও হাতে লিখতে পারে। বিদ্যালয়ে স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষকরা এই সব শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মাধ্যমে তাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। বিদালয়টির পরিচালনা কমিটির সদস্য এক্তাতুল ইসলাম জানান, শারীরিক অঙ্গের আঙ্গিকতা না থাকলেও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার যে ইচ্ছা শক্তি তিনি দেখেছেন তাতে তিনি আশা করেন এই সব প্রতিবন্ধীরা অবশ্যই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। উক্ত বিদ্যালয়টির  প্রধান শিক্ষক  পান্না আক্তার  আরো জানান, সরকারি উদ্যোগে এ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আবাসিক এর ব্যবস্থা করতে পারলে এক দিকে যেমন শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে, তেমনি অত্র উপজেলার এ বিদ্যালয়টিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।  আমরা সকলে যদি সত্যিকার অর্থে স্বীকার করি যে প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা না  তাদেরকে যদি  প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি তাহলে তারাও  আর দশ জন সাধারন মানুষের মতো সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। তিনি এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টিও কামনা করেন।

   গত ১ জানুয়ারী ২০২০ থেকে ২০ জানুয়ারী ২০২০ তারিখ পর্যন্ত বিশেষ বিদ্যালয়সমূহের পাঠদান/স্বীকৃতি/এমপিওভূক্তির জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনলাইনে আবেদনের জন্য ১জানুয়ারী ২০২০ তারিখ দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ৫মিনিট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক মনোনীত

উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ ওছমান গনি  উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের  Assembly শিক্ষকবৃন্দের , প্রত্যেক ক্লাস রুমের  এবং সম্পূর্ণ স্কুল ভবনের ছবি ৫ মিনিট  ভিডিও করা হয়েছে।