নেত্রকোনায় পুলিশ সুপারের প্রেস-ব্রিফিং বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ করতেই স্কুল ছাত্রী মনিকে ধর্ষনের পর গলা টিপে হত্যা করা হয়

নেত্রকোনায় পুলিশ সুপারের প্রেস-ব্রিফিং বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ করতেই স্কুল ছাত্রী মনিকে ধর্ষনের পর গলা টিপে হত্যা করা হয়

এ কে এম আব্দুল্লাহ্, নেত্রকোনা : নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মান্দারতলা গ্রামের চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী মনি আক্তার হত্যাকান্ডের ৫ দিনের মাথায় হত্যার মূল রহস্য উৎঘাটন ও প্রকৃত আসামী ধর্ষক সুলতান মিয়াকে (২৬) গ্রেফতার করেছে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ।
       মঙ্গলবার বেলা ৩টায় নেত্রকোনা জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ করতেই ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মনি আক্তারকে (১১) ধর্ষণ করার পর ঘটনার জানাজানি হওয়ার ভয়ে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরে সারাদিন লাশ ঘরে রেখে রাতে সুযোগ বুঝে দুই পা পাষ্টিকের সুতলী ও মুখ ওড়না দিয়ে বেধে অপরাধ আড়াল করতে তার বাড়ী থেকে প্রায় ২ শত গজ দূরে জঙ্গলের পাশে একটি গর্তে ফেলে রেখে তার শ্বশুড়বাড়ী বাউসী চলে যায়।
        প্রেস-ব্রিফিংয়ে তিনি আরো জানান, ঘটনাটি ঘটার পর পুলিশ বিভাগ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ নিহতের পরিবার ও পারিপার্শিক অবস্থার বিচার বিশ্লেষন করে জানতে পারেন মান্দার তলা গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র বিবাহিত সুলতান মিয়া এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। পরে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলবার সকালে বারহাট্টা থানা পুলিশ বাউশী তার শ্বশুড়বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কিভাবে ঘটিয়েছে এবং কিভাবে অপরাধ আড়াল করতে লাশ ফেলে রেখেছে তার বর্ণণা দিয়েছে।
       প্রেস-ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম জানান, লামাপাড়া গ্রামের আব্দুল মন্নাফের মেয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মনি আক্তার প্রতি দিনের ন্যায় গত ৩০ এপ্রিল পার্শ্ববর্তী নয়াপাড়া গ্রামের তালেব আলী মাস্টারের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়া শেষে মনি আর বাড়ী ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে চারদিকে খোজাখুজি শুরু করে এবং এলাকায় মাইকিং করে। পরদিন মান্দার তলা গ্রামের মৃত ফজর আলীর পুত্র আব্দুর রাজ্জাক জব্বর আলীর জঙ্গলের পাশে একটি গর্তে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মনি আক্তারের লাশ পড়ে থাকতে দেখে মনির পরিবার ও থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ ফখরুজ্জামান জুয়েল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল-আমিন, সহকারী পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাইদুর রহমান, বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই ফরিদ উপস্থিত ছিলেন।