দুর্গাপুরে অধ্যক্ষের ভুলে কারাভোগ করছে এক শিক্ষার্থী অভিভাবক

দুর্গাপুরে অধ্যক্ষের ভুলে কারাভোগ করছে এক শিক্ষার্থী অভিভাবক

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:‘‘হায়রে কপাল মন্দ-চোখ থাকিতে অন্ধ’’ এমনই এক জ¦ালাময়ী ঘটনায় বিনা দোষে কারাভোগ করছে এক শিক্ষার্থী অভিভাবক। জেলার দুর্গাপুরে দ্বীনি আলীম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহমান এর ভুল সিদ্ধান্তের কারনে মো. মোস্তফা (৪৫) নামের এক অভিভাবক প্রায় ৩ মাস ধরে কারাভোগ করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন মোস্তফার পিতা আব্দুল মালেক।

    এ নিয়ে অভিযোগ ও মামলার সুত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর পৌরশহরে অবস্থিত দ্বীনি আলীম মাদরাসা চলাকালীন সময়ে গত অক্টোবর মাসে চতুর্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করার এক পর্যায়ে মো. হাসান আপন (১৪) নামের এক শিক্ষার্থীর হাতের একটি ঢিল তার বন্ধু মো. তাহসিন আহমেদ (১০) এর ডান চোখের উপরে এসে পরলে তাৎক্ষনিক শিক্ষার্থীগন, মাদরাসার শিক্ষক ও অভিভাবক মো. মোস্তফা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিজ খরচে ময়মনসিংহে প্রেরণ করেন। ঘটনার পরদিন মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কেন শিক্ষার্থীদের মাঝে এ ধরনের ঘটনা ঘটলো এর শাস্তি স্বরুপ শিক্ষকদের কাছে দায়িত্ব অবহেলার কারনে ২লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। কেউ কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেও নানা ভয়ভীতির কারনে প্রায় ১লক্ষ টাকা চাঁদা তুলে দেয়া হয় অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের হাতে। আহত হওয়া শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের ভাইয়ের ছেলে হওয়ায় টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টিতে কেউ আর খতিয়ে দেখেননি। দুর্গাপুর হাসপাতালের চিকিৎসাতেই তাহসিন ভালো হয়ে গেলে ময়মনসিংহে চিকিৎসার জন্য পাঠানো ও রোগীকে ঢাকা পাঠাতে হবে এটি ছিলো সম্পুর্ন একটি নাটক। এ বিষয়টি সকলেই জানাজানি হওয়ায় সকলের মাঝে ভীতি সৃষ্টির লক্ষে অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান কাউকে না জানিয়ে তাঁর ভাতিজাতে এই মাদরাসা থেকে সরিয়ে দেন। পরবর্তিতে অধ্যক্ষ সহ মাদরাসার এসএমসি কমিটির সদস্য সমন্বয়ে ওই শিক্ষার্থী অভিভাবক মো. মোস্তফার কাছে তার ভাতিজার উন্নত চিকিৎসা করতে ঢাকা নিতে হবে মর্মে তিন লক্ষ টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, উল্লেখিত ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ স্থান উল্লেখ ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করতে চেয়েছে মর্মে গত ১২ ফেব্রুয়ারী মো. মোস্তফা ও তার ছেলে মো. হাসান আপন কে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন অধ্যক্ষের ভাই তাহসিন এর বাবা মো. আব্দুস সামাদ। দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে প্রায় ৮দিন পরে শিশু শিক্ষার্থী আপন ও তার বাবা মো. মোস্তাফা কে গ্রেফতার করেন দুর্গাপুর থানা পুলিশ। আপন শিশু শিক্ষার্থী হওয়ায় তাঁর দাদুর জিম্মায় দিয়ে মো. মোস্তফা কে জেল হাজতে প্রেরণ করেন বিজ্ঞ আদালত।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন মাদরাসার শিক্ষক বলেন, ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপুর্বক প্রায় ১লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করেন অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান। টাকাই যদি আদায় করলো, তাহলে অহেতুক ওই শিক্ষার্থী অভিভাবক কারাবাস করছে কেন। শিক্ষার্থীদের ওই ঘটনাটি মিমাংসা না করে টাকা আদায়ের খেলায় মেতে উঠছে কেন? করোনা ইস্যুতে সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানদেও এলাকায় অবস্থানের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন তিনি বাহিরে অবস্থান করছেন কেন। খবর নিলে আরো অনেক তথ্য বেড়িয়ে আসবে বলে জানান শিক্ষকবৃন্দ।

    এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান বলেন, করোনা ইস্যুতে প্রতিষ্ঠান ছুটি থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে আমি এলাকার বাহিরে অবস্থান করছি। এ নিয়ে মুঠোফোনে কোন কথা বলবো না বলে ফোন কেটে দেন।

    এ ঘটনায় তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সুমন দাস জানান, শিক্ষার্থীদের ঝগড়া নিয়ে বিষয়টি এতদুর গড়াবে ভাবতে পারিনি। আইনী জটিলতার কারনে কারাভোগ করছে মোস্তফা। চক্ষু হাসপাতালের রিপোর্ট পেলেই বিষয়টি আসল ঘটনাটি বেড়িয়ে আসবে।