হামাগুড়ি দিয়ে অদম্য ইচ্ছা, মনোবল ও কঠোর অধ্যবসায় শারীরিক  প্রতিবন্ধী নিপার  বিএ পাস

হামাগুড়ি দিয়ে অদম্য ইচ্ছা, মনোবল ও কঠোর অধ্যবসায় শারীরিক  প্রতিবন্ধী নিপার  বিএ পাস

ইকরা প্রতিদিন : লক্ষ্য অর্জনে অদম্য ইচ্ছা, মনোবল ও কঠোর অধ্যবসায় দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্তে¡ও দমাতে পারেনি  নিপাকে। নিপার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বেজগাঁও গ্রামের  পিতার নাম  দেলোয়ার হোসেন। 
  নিপার বাবা দেলোয়ার হোসেন একজন অতি সাধারণ কৃষক। তার অল্প জমি রয়েছে। সেই জমি চাষাবাদ করে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। দুই সন্তাানের মধ্যে নিপা বড়। জন্ম থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী।  উচ্চতা প্রায় দুই ফুট। পিঠের মাঝখানে কুঁজো থাকায় তিনি সোজা হায়ে দাঁড়াতে পারেন না। হামাগুড়ি দিয়ে ও অন্যের সাহায্য নিয়ে চলাফেরা করতে হয়।  এই প্রতিবন্ধিতা তার লেখাপড়ার পথে বাধা হতে পারেনি।
নিয়মিত চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা অত্যন্ত মেধাবী এই নিপা ছোটবেলা থেকে কখনো মা কখনো বাবা  কখনো সহপাঠীদের কোলে চড়ে আবার কখনো হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতেন। এমনি ভাবে তিনি স্কুলের গন্ডি পার করে বিএ পাস করেছেন।  
নিপা বলেন প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার দূর থেকে কঠোর পরিশ্রম করে  বিএ পাস করেছি। আমার ইচ্ছা পড়া লেখা করে চাকুরী করব। সমাজের বোঝা নয়, দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখব। 
আমি সমাজ ও পরিবারের বোঝা হয়ে বাঁচতে চাই না। অন্য সাধারণ মানুষের মতো সম্মান নিয়ে সমাজে বাঁচতে চাই। আমি কাজ করতে পারি। যোগ্যতা অনুযায়ী আমার কাজ করার সুযোগ দেন।
আমার পড়া লেখার পেছনে আমার বাবা-মার অনেক অবদান। আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’ মা বাবার ভালোবাসা ও মমতার কথা জানাতে গিয়ে হৃদয় ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন। 
নিপার সাথে আলাপ করে যানা যায়, ২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষার সময় তিনি রিক্সা থেকে পড়ে গিয়ে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পরেন। তবু তিনি জিপিএ ২.৩১  পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০১৩ সালে কেন্দুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচ এস সি  এবং ২০১৭ সালে বি এ পাস  করেন । তিনি কম্পিউটার ব্যবহারেও  পারদর্শী।
তিনি বলেন, কারো বোঝা হয়ে থাকতে চায় না, নিজের যোগ্যতা বলে আত্মমর্যাদা নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে দেশ ও জনগণের সেবা করতে চান। নিপা তার পথচলায় বাবা-মা ও তার কয়েক সহপাঠীর সহযোগিতা পেয়েছেন। প্রতিবন্ধী বলে কলেজ বা সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি। 
পরীক্ষার হলে কি ভাবে পরীক্ষা দেয়া হতো জানতে চাইলে নিপা বলেন, আমি একটি কক্ষে একা (সিক বেড)  পরীক্ষা দিয়েছি কারো কাছ থেকে একটুও সহায়তা ও পায়নি। প্রতিবন্ধীদের জন্য অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ থাকলেই তা আমি পায়নি। এমন কি আমার বাবার নিকট থেকে প্রতি পরীক্ষার জন্য পাঁচশত টাকা নেয়া হতো ।  
নিপার বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছোট বেলা থেকে নিপা খুব জেদি ও লেখাপড়ায় মনোযোগী ছিল। এসএসসি পাস করার পর তার অবস্থার কথা চিন্তা করে লেখাপড়া না করার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু তার এক কথা যেকোনো মূল্যে সে পড়ালেখা চালিয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত তার জেদের কাছে আমাদের হার মানতে হলো। এখন বুঝতে পারছি, তার ভেতর যে অদম্য প্রতিভা লুকিয়ে আছে একটু সহযোগিতা করলে হয়তো অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে এই ভাগ্য বিড়ম্বিত মেয়েটি। 
নিপা আরো বলেন,শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে কেউ আমাকে চাকরি দিতে চায় না। আমি নাকি ভারী কাজ করতে পারবো না। আরও অনেক কথা বলে, কিন্তু কেউ চাকরি দেয় না। সবাই আমাকে বোঝা মনে করেন। আমিা সমাজের জন্য বোঝা নয়, সম্পদ হয়ে সাধারণ মানুষের মতো  চাকরি করে বাঁচতে চাই। 
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী  ও তার কন্যা সাইমা ওয়াজেদ পুতুল এর কাছে  আমার বিনীত ভাবে আবেদন , আমি সাহায্য চাই না  আমার যোগ্যতা অনুযায়ি  আমাকে একটা চাকুরী ব্যবস্থা করে দেন ।