আসুন সবাই মিলে সুন্দর সমাজ গড়তে জুয়া  মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই

আসুন সবাই মিলে সুন্দর সমাজ গড়তে জুয়া  মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই

 কেন্দুয়া প্রতিনিধি :    বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নব্বই’র স্বৈরাচার বিরোধী গণ আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা ও নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি অসীম কুমার উকিল বলেছেন, আসুন সবাই মিলে সুন্দর সমাজ গড়তে জুয়া মদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই। তিনি বলেন, বর্তমানে জুয়া ও মাদক সমাজের এক বিশেষ ব্যাদী, এই ব্যাদী দূর করতে হলে শুধু পুলিশের উপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিলে চলবে না। সমাজের সকল শ্রেনী পেশার মানুষকে সুন্দর সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে সকল প্রকার অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে। অসীম কুমার উকিল বলেন, অনাগত দিনে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। আমাদেরকে শপথ নিতে হবে আমরা শতভাগ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সমাজকে দূর্নীতিমূক্ত করব। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকতে সারা বিশ্বে দূর্নীতিতে বার বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু আমার নেত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সততা নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা তার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই। অসীম উকিল বলেন, আমরা বর্তমানে খুব কঠিন সময় অতিক্রম করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে করোনা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করে দেশ এখনও মাথা উঁচু করে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। তা সকলকে বুঝতে হবে এবং ধরে রাখতে হবে। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সততার সঙ্গে দেশ প্রেম নিয়ে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করুন। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ক্ষমতা নিয়ে কেউ বাহাদুরি করবেন না। ফরিদপুরের ঘটনা থেকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের অনেক শিক্ষা নিতে হবে। তিনি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, সময়ের মূল্য দিতে শিখুন। জনগণের পাশে সেবামূলক মনোভব নিয়ে দাড়ান তবেই জনগণ বাহাবা কুড়াবে। যারা মনে করেন একবার ক্ষমতায় থাকার জন্য দায়িত্বে এসেছেন, তাদের দায়িত্ব পালনের হিসাব নিকাশ এলোমেলো হতে পারে। তিনি বলেন, আমি এসেছি এই এলাকার মানুষকে নিয়ে আমৃত্যু সুখে দুঃখে পাশে থাকতে। যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন, দূর্নীতির অভিযোগ তুলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, এমপি হওয়ার পর আমার স্বাস্থ্যেরও কোন পরিবর্তন হয়নি, গাড়ি বাড়িরও পরিবর্তন হয়নি,  হবেওনা কোনদিন। যারা আমার নাম ভাঙ্গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কোন প্রকার কাজ না করে সরকারি কোষাগার থেকে বিল উত্তোলন করে নিতে চান, তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানুষ তৈরী হয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা অন্যান্য পদে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন প্রকার চান্দাবাজী ধান্দাবাজী আমি সহ্য করবনা। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি অতীতেও বলেছি আমার নির্বাচনী এলাকায় যারা সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে এসছেন তারা আমাদের অথিতি। এই অথিতিদের সঙ্গে যদি কেউ অসদাচরন করেন, তাহলে গৃহস্থের অকল্যান হয়। কোন কর্মকর্তা কর্মচারীর কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ থাকলে সেক্ষেত্রে কোন মানববন্ধন বা কোন মন্ত্রীর কাছে না গিয়ে নালিশ না করে নিজেরাই বসে শেষ করতে হবে। আমাদের এলাকার ইজ্জত সম্মান আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। তাই আসুন সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুয়া ও মাদকমুক্ত সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি। বুধবার দুপুরে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি প্রধানঅথিতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মইন উদ্দিন খন্দকার। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম, কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আব্দুল কাদির ভ‚ঞা, পৌর মেয়র মোঃ আসাদুল হক ভ‚ঞা, ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভ‚ঞা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা বেগম সুমি, কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান, আশুজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, গড়াডোবা ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বাবলু, সান্দিকোনা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুল ইসলাম, রোয়াইলবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম ইকবাল রুমি, গন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম সঞ্জু, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম রব্বানী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান মৃধা, ডা. নাজমুস সাকিব, উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হাসান, মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মোঃ বজলুর রহমান ও কেন্দুয়া বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ এনামুল হক ভ‚ঞা প্রমুখ।