কলমাকান্দায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরো ২ জন মরদেহ উদ্ধার ; এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১২

কলমাকান্দায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরো ২ জন মরদেহ উদ্ধার ; এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১২

কলমাকান্দা  প্রতিনিধি : যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় আজ শুক্রবার দুপুরে  আরো ২ জনের ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে । এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১২ ।

যাদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইনাতনগর গ্রামের মো. আব্দুল ওয়াহাব কন্যা শিশু মনিরা আক্তার (৫) ও একই এলাকার হান্নান মিয়া ওরফে আবু এর পুত্র রতন মিয়া (৪০)।

এদিকে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবিতে ৬ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে  ট্রলার ডুবিতে নিহত লুৎফুন্নাহারের স্বামী আব্দুল ওয়াহাব বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এবং এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাল্কহেড নৌকার চালকসহ আটক ৫ জনকে ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করে নেত্রকোনা আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। তবে ট্রলার চালক সোহাগ মিয়া ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

গত বুধবার নেত্রকোণার কলমাকান্দায় গুমাই নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে আজ শুক্রবার দুপুরে ২ জনের  ভাসমান মরদেহ পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার হলদি নামক বিল থেকে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা । এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দা থানার ওসি মোঃ মাজহারুল করিম। এ নিয়ে ১২ জনের  মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। 

এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর)  সকালে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারের তৎপরতা কার্যক্রম জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন ; এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় গত বুধবার ট্রলার ডুবিতে ১০ জন নিহত ও দুইজন নিখোঁজের ঘটনায় কলমাকান্দা থানায় দুই নৌকার মাঝি সহ ৬জনকে আসামি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে আব্দুল ওয়াবের স্ত্রী ও এক ছেলে শিশু নিহত এবং তার এক কন্যা শিশু নিখোঁজ থাকায় তিনি বাদি হয়ে নিহতদের পক্ষে এ মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে যাত্রীবাহী ট্রলালের চালক সোহাগ পলাতক রয়েছে।

গত বুধবার দুর্ঘটনার পর বাল্কহেড ও যাত্রীবাহী ট্রলার জব্দ ও বাল্কহেডের চালক সহ ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে কলমাকান্দা পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে সাড়ে ৪টায় মামলার আসামিদের নেত্রকোণা জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান  ওই থানার ওসি মো. মাজাহারুল করিম।

দুর্ঘটনা তদন্তে নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে ।

উলে­খ্য যে , এর আগে গত বুধবার দিন সকালে উপজেলা বড়খাপন ইউনিয়নের রাজনগর এলাকায় গুমাই নদীতে বাল্কহেড ও যাত্রীবাহী ট্রলারের সংঘর্ষে ৪ শিশু, ৫ নারি ও একজন পুরুষের মৃত দেহ স্থানীয়রা উদ্ধার।  এ ঘটনায় আরো ২ জনের ভাসমান  মরদেহ সহ এ পর্যন্ত ১২ জনের  মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।