জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিচ্ছু নেই নৈশপ্রহরী স্বপনের  

জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিচ্ছু নেই নৈশপ্রহরী স্বপনের  

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া : কোন আক্ষেপ নেই। অনুযোগ নেই। জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিচ্ছু নেই। সৃষ্টিকর্তা যে ভাবেই রেখেছেন তাতেই সন্তোষ ও শুকরিয়া প্রকাশ করেন কেন্দুয়া বাজারের নৈশ প্রহরী আব্দুল মজিদ স্বপ্ন। বৃস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কেন্দুয়া বাজারের মোতালিবের চায়ের দোকানে চায়ের কাপে চুমু খেতে খেতে প্রতিবেদকের সাথে জীবনের গল্প ও ইচ্ছার কথাগুলো বলেন তিনি। আরামবাগ মহল্লার বাসিন্দা নৈশ প্রহরী আব্দুল মজিদ স্বপনের বাবা আব্দুল হাকিম পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরী করতেন। সেই সুবাদে প্রাথমিক শিক্ষাসহ সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা পড়া করেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেনি পাশ করেন। পরে নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি ভর্তি হন। ১৯৮৮ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন কিন্তু পাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারেনি। ৭ ভাই এক বোনের মধ্যে তিনিই সবার বড়। ইচ্ছা থাকার সত্বেও অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারনে তিনি সংসার জীবন গড়তে পারলেন না। তার সব ভাই-বোন উচ্চ শিক্ষিত। করেছেন আলাদা আলাদা সংসার। বৃদ্ধ মাকে নিয়ে স্বপনের সংসার। বৃদ্ধ মায়ের প্রায়ই অসুখ-বিসুখ লেগে থাকে তাতে তার রোজগার দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তার। মায়ের ঔষধ যোগার করতে কষ্ট হয়। তবে অন্য ভাইয়েরা তাকে সহযোগিতা করেন বলে জানায় তিনি। লেখা-পড়া করে জীবনে নামী-দামী কবি-সাহিত্যক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু অর্থনৈতিক কড়াল গ্রাসে তার স্বপ্ন আজ খান খান। প্রায় ১৫/১৬ বছর ধরে কেন্দুয়া বাজারের কোর্ট রোড এলাকার নৈশ প্রহরী হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে কারোর কোন অভিযোগ নেই। তিনি বলেন,কবি-সাহিত্যিক হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু অর্থকষ্টে লেখাপড়া করতে পারিনি। পারিনি সংসার করতে। কবি-সাহিত্যিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্ত টাকা-পয়সার অভাবে লেখাপড়া করতে পারিনি আর ইচ্ছাও পূরণ হয়নি। এত আমার আক্ষেপ নেই। সৃষ্টিকর্তা (মালিক) যেভাবে রেখেছে তাতেই সন্তোষ আছি। আমার জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিচ্ছু নেই। সবার কাছে দোয়া চান তিনি।