কলমাকান্দায় মসজিদ সংলগ্ন পুকুরটি যেন ডাষ্টবিন !  

কলমাকান্দায় মসজিদ সংলগ্ন পুকুরটি যেন ডাষ্টবিন !  

শেখ শামীম, স্টাফ রিপোর্টার : নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় সদরে জেলা পরিষদের পুকুরটি এখন ডাষ্টবিনে পরিণত হয়েছে ! কলমাকান্দা থানা জামে মসজিদ সংলগ্ন জেলা পরিষদের পুকুরটি উপজেলার প্রাণকেন্দ্র অবস্থিত। বিদ্যুৎ বিভ্রাট কালে মুসল্লীরা অজু করতে বিপাকে পড়েন। এক সময় বাজারের হাজারো বাসিন্দারা দৈনন্দিন সাংসারিক  কাজে এ পুকুরের পানি ব্যবহার করতেন।

সরেজমিনে ঘুরে  দেখা যায়, কলমাকান্দা থানা জামে মসজিদ সংলগ্ন ওই পুকুরটিতে ময়লা আর্বজনা ফেলার কারণে  দিন দিন দুষিত হয়ে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ওই পুকুরের এক পাশে দু,তলা মার্কেটের দোকান ও সিএনজি অটোরিক্সা ষ্টেশন রয়েছে। বাজার ও মার্কেটের ব্যবসায়ী এবং মুসল্লীগন ও সর্বসাধারনের ব্যবহারে রয়েছে পুকুরের দুদিকে ২টি ঘাট। ওই ঘাটের উপর ময়লা আর্বজনা প্রতিনিয়ত পড়ে থাকে। পুকুর পাড়ে দাড়িয়ে মানুষদের প্রশ্রাব করতে দেখা যায়। আরো দেখা যায় এসব ময়লা আবর্জনা ও প্রশ্রাবের পানি পুকুরে গিয়ে পড়ার কারণে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়াছে। দুষণ হচ্ছে পরিবেশ। এ যেন দেখার কেউ নেই!
 
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থেকে নেত্রকোণা জেলা ও বিভাগীয় শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন সহস্রাধীক মানুষ আসা যাওয়ার পথে মসজিদ মুসল্লীরাসহ আমজনতা এখানকার পরিবেশ দেখে অনেকেই বলেন, এই পুকুরটি বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয় এলাকায়  সচেতন ব্যক্তিগণের অভাব । যার ফলে প্রতিদিন বাজারের কাঁচামাল ও  মার্কেটের ব্যবসায়ীরা  পুকুরে ময়লা আর্বজনা ফেলে দেয়। এখানে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তা বন্ধ ও পরিস্কার করতে না পারলে পানি কমার সঙ্গে  সঙ্গেই দুষিত হয়ে পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। পুকুরের পানি দূষিত হয়ে মাছ মরে ভেঁসে উঠে। এতে করে অসহনীয়  দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। 

বিদ্যুৎ বিভ্রাট কালে মুসল্লীদের অজু করতে র্দু,অবস্থা দেখে বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী বাবুল আহমেদসহ অনেকেই ইক্রা প্রতিদিনকে বলেন, ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করলে নিজেদের স্বার্থে  আর্বজনাগুলো এখানে না ফেলে দুরে কোথাও ফেলতে পারেন। আর কাগজ ও পলিথিন গুলোকে আগুনে পুড়ে ধ্বংস করে দিতে পারেন। এখানে এসব আর্বজনা ফেলার কারনে নিজেরাই ক্ষতির শিকার হচ্ছে।  সবাইকে দুষিত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। তা আমাদের বুঝা উচিৎ। বর্তমানে যে অবস্থার বিরাজ করছে তা বন্ধ করা না গেলে এখানকার পরিবেশ মারাত্মক আকার ধারণ করবে। আর তাই পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে জন-প্রতিনিধির সু-দৃষ্টির প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল।

এব্যাপারে স্থানীয় মুসল্লী মাসুদ কবির আক্ষেপ করে ইক্রা প্রতিদিনকে বলেন, বছর দুয়েক আগে  পুকুরে মুসল্লীরা অযু করতেন। আমিসহ আমাদের বাজারের লোকজন গোসল করেছি এ পুকুরে।  আর বর্তমানে এ পুকুরে পানি পঁচেই গেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট কালে মুসল্লীদের অজু করতে বিপাকে পড়তে হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য  বাজারের ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নেক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা জেলা পরিষদের সদস্য ইদ্দিস আলী তালুকদার ইক্রা প্রতিদিনকে বলেন,  এ নিয়ে জেলা পরিষদের  আগামী মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা করবো । ওই পুকুরটিকে দূষণমুক্ত করার দ্রæত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি ।