দুর্গাপুর পৌরশহরে ট্রাক্টরের বিকট শব্দে  জন ভোগান্তি চরমে 

দুর্গাপুর পৌরশহরে ট্রাক্টরের বিকট শব্দে  জন ভোগান্তি চরমে 

দুর্গাপুর  প্রতিনিধি : জেলার দুর্গাপুরে কৃষি জমি চাষের ট্রাক্টর পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় বেপরোয়া চলাচল ও গাড়ীর বিকট শব্দে পৌরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। অনবরত ভিজা বালু বহন ও ট্রাক্টর চলাচলের শব্দে রাতের ঘুম হারাম হচ্ছে এলাকাবাসীর। ভিজা বালু বহনে শুকনা মৌসুমেও শহরের রাস্তা কাঁদায় পরিনত হয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। এ নিয়ে বুধবার রাতে সরেজমিনে থেকে দেখা গেছে, দুর্গাপুর পৌর এলাকার সোমেশ^রী নদীর ইজারা প্রাপ্ত ১, ও ২ নং বালু ঘাট থেকে ভিজা বালু বহন করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। বালু ভর্তি অবৈধ ট্রাক্টরের উপরে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে পরিবহন করার কথা থাকলেও তা মানছেনা অনেক গাড়ী চালক। আবার অনেক ট্রাক্টর অপ্রাপ্ত চালক দিয়ে চালানোর ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। পৌরশহরের কলেজ রোড, উপজেলা সড়ক ও হাসপাতাল সড়কের রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ শত ট্রাক্টর, ট্রাক ও মিনি ড্রামট্রাক চলাচল করায় রাস্তার অবস্থা করুণ দশায় পরিণত হয়েছে। ট্রাক্টরের নিচে পড়ে শিক্ষার্থী নিহত ও সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনেরর দাবীতে রাস্তা অবরোধ ও মানববন্ধনের ফলে, সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শহরে ট্রাক্টর চলাচল করবে না মর্মে তা বাস্তবায়ন করতে পুলিশ প্রশাসনকে লিখিত নির্দেশ দেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন। জেলা ও উপজেলার এই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে, পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগ থেকেই বিকট শব্দ করে ট্রাক্টর চলাচল করায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন শহরবাসী। 
রিক্সা চালক আজিম উদ্দিন বলেন, দিনের বেলায় ট্রাক্টর চলাচল বন্ধের নির্দেশ থাকলেও প্রায় সময়ই তা চলাচল করতে দেখা যায়। রিক্সা নিয়া রাস্তা পার হওয়া তো দূরের কথা ঐ রাস্তা দিয়ে পথচারী চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে। রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম লেগে থাকায় নানা প্রতিবন্ধকতা পোহাতে হয় আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষদের। পৌরশহরে রাতের বেলায় ট্রাক্টর চলাচল নিয়ে ব্যবসায়ী হরমুজ আলী বলেন, বিকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত যে বিকট শব্দে রাস্তায় ট্রাক্টর চলাচল করে, এভাবে চলতে থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের কান হাটকালা হয়ে যাবে। আমার বাসায় বাবা অসুস্থ্য, প্রতিদিন রাতে ঘুমের ঔষধ থেয়ে ঘুমাতে হয়। এ ব্যপারে প্রশাসন ও দলীয় নেতারা নীরব কেন তা বুঝতে পারছি না। এ নিয়ে শহরবাসী আন্দোলন না করলে এই আযাব থেকে আমরা মুক্তি পামু না। অচিরেই আমরা আন্দোলন গড়ে তুলমু, মাইরের উপরে কোন ওষুধ নাই, এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম এ প্রতিনিধি কে বলেন, দুর্গাপুর পৌরসভাসহ আশপাশের ইজারাকৃত এলাকা থেকে ভিজাবালু পরিবহন ইতোমধ্যে নিষেধ করা হয়েছে। পৌরশহরের রাস্তায় পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ট্রাক্টর চলাচল বন্ধের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। বর্তমান অবস্থা নিরসন ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশ বাস্তবায়নে রাতে শব্দদুষন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।