সুচিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চায় পূর্বধলার মানসিক ভারসাম্যহীন আব্দুল গানি

সুচিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চায় পূর্বধলার মানসিক ভারসাম্যহীন আব্দুল গানি

মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীমঃ সুচিকিৎসার অভাবে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলবন্দী জীবন যাপন করছেন নেত্রকোণা  জেলার পূর্বধলা উপজেলার হিরণপুর এলাকার নরনারায়ণপুর কান্দাপড়া গ্রামের রজব আলীর ছেলে মোঃ আব্দুল গানি। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভিতরে তাকে শিকলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তার বৃদ্ধা মা ও শিশু একটি ছেলে অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পায় তাতেই কোনমতে চলে তাদের সংসার। পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে সে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় সংসারের হাল ধরে তার ১২বছর বয়সী শিশু ছেলেটি। জানা যায়, এই গনি একসময় প্রবাসে ছিলো।

দুইসন্তানের জনক এই আব্দুল গানির ১৬ বছর বয়সী বড় মেয়েটিও ভারসাম্যহীন। স্ত্রী শমলা খাতুন বড় মেয়েটিকে নিয়ে ঢাকায় বিভিন্ন কাজ কর্মকরে তাদের জীবন নির্বাহ করছে। মাস শেষে থেমন কিছুই দিতে পারেন না স্বামী আব্দুল গনি ও সন্তানকে। 

আব্দুল গনির মা আয়েশা খাতুন জানায়, বড় খায়েশ করে ছেলেকে বিয়ে করিয়েছিলাম। সুখেই চলছিল সংসার। আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে সে হঠাৎ পাগল হয়ে যায়। ফলে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় তার সংসার। এরই মধ্যে তার দুটো সন্তানও হয়। তার স্ত্রী পাগল মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় থাকে, আর আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে ছেলেকে খাওয়াই। 

কোন চিকিৎসা কি করেছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তার ভাবি (বড় ভাইয়ের স্ত্রী) বলেন, প্রথম প্রথম টুকটাক চিকিৎসা করলেও অর্থাভাবে ভালো কোন চিকিৎসা করা যায়নি। 

এমতাবস্থায় তাদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবী, যদি ভালো চিকিৎসা দেয়া যেতো তবে সে আবার পূর্বের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতো। তারা দাবি করেন, মানবতার মা হিসেবে খ্যাত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের কত অসহায় গরিবের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। যদি এই অসহায় পরিবারের পাশে একটু সু-দৃষ্টি দিতেন তবে একটি পরিবার বেঁচে যেতো। 

প্রতিবেশিরা দাবি করেন, কেউ ব্যাক্তি উদ্যোগে বা মাননীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান কিছু চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করতেন তাহলে হয়তো ফের ঘুরে দাঁড়াতো একটি পরিবার। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ১০নং নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ খোকন মিয়া বলেন, আমি তাকে ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলেছি। নতুন বাজেট আসলে একটা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেব। আর চিকিৎসা সহায়তার ব্যাপারে কোন আবেদন পাইনি। যদি তারা সরকারি কোন চিকিৎসা সহায়তা চেয়ে আবেদন করেন, তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যাতে সহায়তা পায়।