ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শসার বাম্পার ফলন, দামও ভালো

 ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শসার বাম্পার ফলন, দামও ভালো

হোছাইন মুহাম্মদ তারেক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ঈশ্বরগঞ্জে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। আবার করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। 
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের বিপুল পরিমাণ শসা চাষ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পর মাঠ শসা ক্ষেতে ছেয়ে আছে। ফসলের মাঠে সারি সারি শোভা পাচ্ছে অজস্র শসা। ক্ষেত পরিচর্যা ও শসা তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে এখানকার চাষীরা। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় শসা বাম্পার ফলন হয়েছে। উন্নত জাতের শসার চাষ করে ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। পবিত্র রমজান উপলক্ষে চাহিদা বৃদ্ধি ও ভাল দাম পাওয়ায় চাষীদের মুখে ফুটে উঠেছে সজীব হাসি।কৃষকের মুখের হাসিই বলে দিচ্ছে এবার শসা চাষ করে জিতে গেছেন! করোনা পরিস্থিতিতে নিজ বাড়ির সামনে বসে ন্যায্যমূল্যে ব্যবসায়ীদের কাছে শসা বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষকরা।
 
উপজেলা কৃষি অফিস তথ্য অনুযায়ী,বীজ রোপণের ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই গাছে শসা আসে। এরপরে ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত শসা ধরতেই থাকে। ভালো পরিচর্যা এবং প্রয়োজনীয় সার দিলে এক একর জমি থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মণ শসা বিক্রি করা যায়।উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়ন বড়হিত ইউনিয়ন,মগটুলা ইউনিয়ন,আঠারবাড়ী ইউনিয়ন,তারুন্দিয়া ইউনিয়ন ,উচাখিলা ইউনিয়নে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে মাইজবাগ ইউনিয়নে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ উপজেলা থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে শসাসহ বিভিন্ন সবজি যায় দেশের বড় বড় শহরে।কোন প্রকার দালাল ছাড়া সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন।হেক্টর প্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা ।
  
উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের শসা চাষি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন  বলেন, এক একর ৪০শতাংশ জমিতে শসার চাষ করেছি। ৪ দিন ধরে বিক্রি করছি। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ মণ পর্যন্ত শসা বিক্রি করি। এবার ফলন যেমন বেশি হয়েছে, দামও মোটামুটি ভালো পাচ্ছি। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ৩৫ টাকা কেজি অথবা ১৪শ টাকা মণ বিক্রি করছি। এ রকম দাম থাকলে এবার আমাদের ভালোই লাভ হবে।
 
মাইজবাগ ইউনিয়নের শসা চাষী মোঃ মিলন মিয়া বলেন ,৫০শতাংশ জমিতে শসার চাষ করেছি। ৫ দিন ধরে বিক্রি করছি। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩মণ পর্যন্ত শসা বিক্রি করি। এবার ফলন যেমন বেশি হয়েছে, দামও মোটামুটি ভালো পাচ্ছি।

মাইজবাগ ইউনিয়নের  উপ সহকারী কৃষি অফিসার সোহেল রানা বলেন: শসা একটি  স্বল্পমেয়াদী উচ্চমূল্য সবজি। শসা হজমে সাহায্য করে,হাড় মজবুত করে, হৃদযন্ত্র ভালো রাখে, মানসিক চাপ কমায় এবং ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল রাখে। ব্লকের সকল কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ সম্মত উপায়ে বিষমুক্ত শসা সহ সকল সবজির লাভজনক উৎপাদনে সকল ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

মগটুলা উনিয়নের নাউরী গ্রামের শসা চাষি তফিকুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার কিছু পরে বীজ বপন করা হয়েছে। এবার শসার ফলন খুব ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ১৩শ থেকে ১৪শ টাকা মণ বিক্রি করছি। এ রকম দাম থাকলে এবার আমাদের ভালোই লাভ হবে ।

শ্রীরামপুর গ্রামের চাষি আজহারুল ইসলাম বলেন, এবার ফলন যেমন বেশি হয়েছে, দামও মোটামুটি ভালো পাচ্ছি। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এ রকম দাম থাকলে এবার আমাদের ভালোই লাভ হবে ।

মগটুলা উনিয়নের উপ সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ আতিকুর রহমান বলেন,কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা ও বাজারজাত করণের পরামর্শ দিয়েছি। কৃষক যাতে লাভবান হতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের চেষ্টা রয়েছে আমাদের।
 
পাড়াপাচাশি গ্রামের শসা চাষি গোলাম মোস্তফা জানান, আমার এক একর জমিতে শসার আবাদ করেছি।ফলনও ভালো হয়েছে। রমজানের প্রথম দিন থেকে শসা বাজারজাত শুরু করেছি। এতে আমার খরচ বাদ দিয়ে লাভবান হবো বলে আশা করি। তিনি আরো জানান, স্থানীয় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতি বছর পাইকাররা শসা কিনতে আসেন। এবছর রমজান উপলক্ষে দামও বেশ ভালো পাচ্ছি।
  
চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক হারুনুর রশিদ বলেন, তিনি ৭০শতাংশ জমিতে শসা আবাদ করেছেন।এবার শসার ফলন খুব ভাল হয়েছে।পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি অথবা ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকা মণ বিক্রি করছি।এ রকম দাম থাকলে এবার আমাদের মোটামুটি ভালই লাভ হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাধন কুমার গুহ মজুমদার  বলেন ,ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সবজি আবাদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।আমাদের পরামর্শ মেনে শসার চাষ করায় কৃষকরা বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন। আগামীতেও যারা শসা চাষ করবেন আমরা তাদের সকল ধরণের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করবো।তিনি আরো বলেন, এবার এ উপজেলায় ১শ হেক্টর  জমিতে শসার আবাদ  করা হয়েছে ।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১হাজার মেট্রিক টন শসার ফলন হবে।