কৃষি প্রণোদনার সার বীজ পাচার কালে আটক; তদন্তে কমিটি গঠন

কৃষি প্রণোদনার সার বীজ পাচার কালে আটক; তদন্তে কমিটি গঠন

ধোবাউড়া প্রতিনিধি: ধোবাউড়ায় কৃষকদের জন্য প্রণোদনার সার ও বীজ পাচার করার সময় আটক করেছে জনতা। পরে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা ও পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বীজ ও সারগুলো উদ্ধার করে। কৃষি বিভাগ বলছে- প্রকৃত কৃষকদের দেওয়া হয়েছিল সার ও বীজগুলো। কিন্তু সেগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে কীভাবে যাচ্ছিল তা অনুসন্ধানে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। 

প্রান্তিক কৃষকদের আউষ প্রণোদনা হিসেবে মঙ্গলবার ধোবাউড়া সদর ইউনিয়নের ১০৫ জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। ৫ কেজি করে বীজ ধান ও দুই প্রকারের ৩০ কেজি সার বিতরণ করা হয় প্রত্যেক কৃষকের মাঝে। কিন্তু বিকেল ৫টার দিকে চারটি রিকশাভর্তি সার ও বীজ সরকারি গোডাউন থেকে উপজেলা সদর বাজারে যাওয়ার পথে স্থানীয় মানুষেরা আটককরে। 

সদর বাজারে সার ও বীজবাহী রিকশাগুলো আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা কৃষি অফিসারওথানা পুলিশ। চারটি রিকশা ভর্তি সার ও বীজ জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ফের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে জব্দকৃত সার ও বীজ কৃষি বিভাগের গোডাউনে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৬ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি) বীজ ধান ও ২৮ বস্তা সার। উদ্ধার হওয়া ধান বীজ অন্তত ৭২ জন কৃষকের মধ্যে বিতরণ করার কথা ছিলো। ২৮ বস্তা সার পেতেন ৩৬ জন কৃষক। কিন্তু প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ না করে অসাধু চক্রের মাধ্যমে সেগুলো পাচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। 

রিকশার চালকরা কৃষি বিভাগকে জানিয়েছেন, সার ও বীজ ৭ জন মেম্বার ধোবাউড়ার গোথ হাটায় নিয়ে যেতে বলেন তাদের। গোডাউন থেকে মালামাল গুলো তারা নিয়ে গোথ হাটার দিকেই যাচ্ছিলেন। পথে তাদের আটক করে সাধারণ মানুষ। কিন্তু রিকশা চালকরা ইউপি সদস্যদের নাম বলতে পারেননি।

এ ব্যাপারে কৃষি অফিসার গোলাম সারোয়ার তুষার বলেন, অগ্রাধিকার তালিকা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ। তালিকায় প্রকৃত কৃষকের নাম আসলে এমনটি হওয়ার কথা নয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাফিকুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।