কেন্দুয়ায় বাঙ্গি চাষে সফল ওয়াসিম

কেন্দুয়ায় বাঙ্গি চাষে সফল ওয়াসিম

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বৃক্ষপ্রেমিক ওয়াসিমের ক্ষেতে ফলেছে ৯ কেজি ওজনের বাঙ্গি। ভাল ফলন হওয়ায় লাভে মুখ দেখছেন ওয়াসিম।জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণজাত গ্রামে

মল্লিক আনোয়ার জাহিদ ওরফে ওয়াসিম। তিনি এবছর তার ৪০শতক আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে বাঙ্গি চাষ সফল হয়েছেন। বাঙ্গির ফলন হয়েছে আশানুরূপ। ৭ থেকে ৯ কেজি ওজনের বাঙ্গি চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছন। অনেকেই তার কাছে বাঙ্গি চাষের পরামর্শ নিতে আসছেন। ওয়াসিম এলাকায় একজন বৃক্ষপ্রেমিক হিসেবে পরিচয় রয়েছে। তার রয়েছে মাল্টা বাগান, উন্নতজাতের আম বাগান, লেবুর বাগান। এ ছাড়াও প্রায় ১২০ শতক জমির ওপর তার বসতবাড়িটি যেন একটি ফল বাগান। প্রায় দেড়শ’ প্রজাতির ফলের গাছ রয়েছে তার বাড়িতে। এরমধ্যে ৪০ প্রজাতির আম, ৮৫টি কাঁঠাল, ৮টি জাম, ৬টি কমলা, লিচু ৫টি, পেয়ারা ১০টি, ড্রাগন ৬টি, লটকন ৪০টিসহ পেঁপে সুপারি, গোলাপ জাম, নারিকেল, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, ট্যাংফল, কামরাঙ্গা, অরবড়ই, নাশপাতি, কুল, তেঁতুল, ডেফল, চালতা, সফেদা, আশফল, বিলম্বু, আঙ্গুর, আনারস, কলা, বেল, জাম্বুরা, করমচা, জামরুল, আমড়া, আনার, ডালিম, বেদানা, চেরিফল, মহুয়া ফল, রামভূটান, কতবেল, আমলকি, শরিফা, আতাফল,তৃর্ণ ফল, এভোকাডো ফল, করোসল ফল, বিভিন্ন প্রজাপতি আপেল,ট্রভেরী পেয়ারা,মালবেরী,বিভিন্ন প্রজাপতি আনার,পার্সিমন ফল,রামভুটান ফল। তাছাড়া ভেষজ জাতীয় রয়েছে হরতকি, বহেরা, পাথরকুঁচি, ডায়াজেট, এ্যালোভেরা, পান বিলাপ, তুলসী, লজ্জাবতী, উলটকমল, আলোবোকেরা, লবঙ্গসহ নানা প্রজাপতির বনজ গাছও রয়েছে প্রচুর। 

ওয়াসিম বাবার একমাত্র ছেলে। লেখাপড়া শেষ করে কেন্দুয়া বাজারে ‘মেসার্স মল্লিক কৃষি কেন্দ্র’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ও বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই ফলের গাছ লাগানো ও কৃষি কাজের প্রতি প্রবল শখ তার। এই শখেই তিনি এখন এলাকার একজন বৃক্ষপ্রেমিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ওয়াসিম জানান, ৪০শতক আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে বাঙ্গি চাষ করে ভালই লাভবান হয়েছেন। প্রতিটি বাঙ্গির ওজন ৭ থেকে ৯ কেজি। আমাদের এলাকায় ছোট বাঙ্গির চাহিদা বেশি। আমি মূলতঃ ছোট জাতের বাঙ্গি চাষ করেছিলাম কিন্তু ফলেছে বড় জাত। এই জাতের বাঙ্গি সুসাধু হওয়ায় ভাল চাহিদা রয়েছে। এছাড়া আমার আম,মাল্টা, লেবুর বাগান রয়েছে। আমার বাড়িতে ১৫৫ জাতের দেশী-বিদেশী ফলের গাছ রয়েছে। সারাবছর কোন না কোন ফল আমার বাড়িতে থাকে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করতে পারি।