কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন পরী মনি

কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন পরী মনি

মাদক মামলায় দীর্ঘ ২৭ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরী মনি। গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পর পরী মনিকে বেশ হাসি-খুশি দেখা যায়। কারাফটক থেকে বের হয়ে সাদা গাড়িতে উঠে উপস্থিত সবাইকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান তিনি। উপস্থিত অনেকের সঙ্গে সেলফিও তুলতে দেখা যায় তাকে। এরপর ওই গাড়িতে করেই বনানীর বাসার উদ্দেশে রওনা হন আলোচিত এ অভিনেত্রী।

এদিকে, সকাল সাড়ে ৮টায় পরী মনির খালু জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন নিকটাত্মীয় ও আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী কারা ফটকে হাজির হন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে পরী মনির জামিনের আদেশ দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। নারী, অভিনেত্রী ও অসুস্থতা বিবেচনায় ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পরী মনির জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। কিন্তু মঙ্গলবার তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে না পৌঁছায় মুক্তি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেল সুপার হালিমা খাতুন জানান, লকআপে ঢোকানোর আগে কাগজপত্র না পাওয়ায় আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া যায়নি।

গত ৪ অগাস্ট রাতে ঢাকার বনানীতে পরী মনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পর দিন তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক আইনে এ মামলা করা হয়। জব্দ তালিকায় পরী মনির বাসা থেকে ‘মদ, আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধারের কথা বলা হয়। ওই দিনই পরীমনিকে প্রথম দফায় চার দিন ও ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

সবশেষ গত ১৯ আগস্ট পরীমনির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট আদালতে হাজির করা হলে পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গত ২২ আগস্ট পরীমনির জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। ওই দিন আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

পর দিন আরেক দফা আবেদনে ‘দ্রুত শুনানির’ আবেদন করেন পরী মনির আইনজীবী। এতে সাড়া না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। সেখানে রুল চাওয়ার পাশাপাশি পরীমনির জামিন আবেদনও করা হয়। হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ আগস্ট সরাসরি জামিন আদেশ না দিয়ে রুল জারি করেন। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার দুদিনের মধ্যে পরী মনির জামিন আবেদনের শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। সেই সঙ্গে ২২ আগস্ট পরী মনি জামিন অবেদন করার পর শুনানির জন্য ২১ দিন পরের তারিখ রেখে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত যে আদেশ দিয়েছে, সেটি কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চান হাইকোর্ট।

১ সেপ্টেম্বর রুল শুনানির তারিখ রেখে এই সময়ের মধ্যে মহানগর দায়রা জজ আদালতকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। আর হাইকোর্টের এ আদেশ বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিবাদীর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের আইন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় সেদিন।