মা-বাবার কাঁধে তিন ছেলে জমজ সন্তান আজ বোঝা 

মা-বাবার কাঁধে তিন ছেলে জমজ সন্তান আজ বোঝা 


 সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া প্রতিনিধি   এক সঙ্গে তিন ছেলে জমজ সন্তানের জন্ম দেন চায়না আক্তার। তার স্বামী ফুল মিয়া একজন কৃষি শ্রমিক। ৮ বছর আগে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন সন্তানের জন্ম হয়। তখন থেকেই সন্তান জন্ম দেওয়ার আনন্দের বদলে বিষাদ সৃষ্টি হয়েছে। তিনটি সন্তানকে একসঙ্গে লালন পালন করতে গিয়ে মা চায়না আক্তার ও বাবা ফুল মিয়া খুবই পরিশ্রান্ত। মা-বাবার কাঁধে তিন জমজ ছেলে সন্তান আজ বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
    কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের মোজাফরপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। চায়না আক্তার জানান, তিন সন্তানের আগেও তাদের এক ছেলে এবং এক মেয়ে আছে। জমজ তিন সন্তান একসঙ্গে জন্ম নেয়ার পর তাদের নানান সমস্যা দেখা দেয়। তখন সে সব সমস্যা সারিয়ে তুলতে ধার দেনা করে লক্ষাধিক টাকা খরচ করতে হয়েছে। চায়না আক্তার শনিবার বলেন, আমার দরিদ্র স্বামী ফুল মিয়ার পক্ষে যে ব্যায় ভার গ্রহন করা মুটেও সম্ভব ছিলনা, পরবর্তীতে মানবতার প্রশ্নে বাবা হয়ে তাকে ধার দেনা করে টাকা জোগার করতে হয়েছে। ৮ বছর যাবৎ তাদের ভরন পোষন করতে গিয়ে আমরা ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। তিন ছেলের নাম রাখেন ইমন, লিমন ও সুজন। একসঙ্গে তারা খেলা করে। তাদের শারিরিক অসুখ বিসুখ সারা বছর লেগেই আছে। একজনের জ্বর কিংবা মাথা বেথা হলে তিনজনের একসঙ্গে জ্বর কিংবা মাথা ব্যাথা হয়। তাদের ভর পোষন করতে গিয়ে আমাদের যা সহায় সম্পদ ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন শুধু আছে ভিটে বাড়িটুকু। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অনুরোধ করছি আমার এই জমজ তিন সন্তানের ভরনপোষনের দায়িত্ব নেয়ার জন্য। আমি গরিব মানুষ হয়ে আজ তাদের ভরন পোষন করতে গিয়ে অসহায় হয়ে পরেছি। সন্তান জন্ম দেয়ার পর সন্তানের মুখ দেখে আনন্দ পাই ঠিকই কিন্তু তিন সন্তানের ভরনপোষন আমাদের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা চাই।