থামছেনা প্রভাবশালীদের অবৈধ নদী দখল প্রক্রিয়া

 থামছেনা প্রভাবশালীদের অবৈধ নদী দখল প্রক্রিয়া

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া প্রতিনিধি পানির গতি প্রবাহ রোধ করে সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে থামছেনা প্রভাবশালীদের অবৈধ নদী দখল প্রক্রিয়া। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে নদীতে বাশের বায়না ও অবৈধ স্থাপনা অপসারন করলেও এক শ্রেনীর প্রভাবশালী অমৎস্যজীবী নদী দখল প্রক্রিয়া চালিয়েই যাচ্ছে। ফলে নদীর পানির গতি প্রবাহ রোধ হয়ে দিন দিনই ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সাতটি নদীর মধ্যে রয়েছে, সুতি সাইডুলি, কৈজানি সিংগুয়া, পাটেশ্বরী, পাটকুরা, বেতাই, রাজী বা রাজরাজেশ্বরী ও সুতি নদী। সাতটি নদীতেই সারা বছর বাঁশের বড় বড় বায়না দিয়ে অথবা অবৈধ স্থাপনা নির্মান করে পানির গতি প্রবাহ রোধ করে বিভিন্ন আকৃতির জাল দিয়ে মাছ ধরে রমরমা ব্যবসা করে আসছে একশ্রেনীর প্রভাবশালী অমৎস্যজীবীরা। তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে নদীতে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাসের পর মাস মাছ ধরছে। তাদের প্রভাবের কারণে এসব মুক্ত জলাশয়ে সাধারন জনগণ জাল বা বরশি দিয়েও দৈনন্দিন মাছ ধরতে পারছে না। একটি মহলের সঙ্গে গোপন আতাত করে প্রভাবশালী অমৎস্যজীবীরা অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ ধরে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। 
সম্প্রতি কেন্দুয়া উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম নদী দখল রোধ করে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে নদী রক্ষার দাবী জানান। তিনি বলেন, এসব নদ-নদী এখন না বাঁচালে ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে এর স্মৃতি চিহ্নই হয়তবা একদিন থাকবেনা। উল্লেখ করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, কেন্দুয়া উপজেলা সদরের খাদ্য গুদাম সংলগ্ন রাজি নদী বা এককালের রাজরাজেশ্বরী নদী হিসেবে পরিচিত নদীতে গত কয়েকবছর আগেও বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন মদন, খালিয়াজুড়ি, মোহনগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ইটনা, মিটামইন, সিলেট, টেকেরঘাট পর্যন্ত নৌপথে সাধারন যাত্রী সহ পন্যবাহী নৌযান চলাচল করত। সে নদীতে অবৈধ বাঁধ দিয়ে নদী দখল ও নদীর ওপর অপরিকল্পিত ব্রীজ সেতু নির্মানের ফলে এখন নৌ চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া নদীর কিনার দখল করে নির্মান করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। ফলে নদীর স্মৃতি চিহ্নই এখন আর থাকছেনা। মূলত রাজি নদী বা রাজ রাজেশ্বরী নদীটি এককালে খর¯্রােতা নদী হিসেবে পরিচিতি থাকলেও এখন একটি নালা বা খালে পরিনত হয়েছে। ওই সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মইন উদ্দিন খন্দকার বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে সকলকে নদী রক্ষায় একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।  
    সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী আমাদের প্রাকৃতিক অমূল্য সম্পদ। এই নদী বাঁচাতে না পারলে একদিন পরিবেশের চরম বিপর্যয় ঘটবে। তিনি বলেন, আমরা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নদীতে দেয়া অবৈধ বাঁেশর বাঁধ ও স্থাপনা অপসারন করে যাচ্ছি। কিন্তু ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেও অবৈধ প্রভাবশালীদের বাঁধ থামানো যাচ্ছেনা। তিনি, নদী রক্ষায় সামাজের সকল শ্রেনী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার দাবী জানান।