গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা!  

 গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা!  

কেন্দুয়া প্রতিনিধি :  নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় এক দরিদ্র কৃষকের ২০ শতক জমির লাউ ও শিম গাছ কেটেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (১২ সেপ্টেম্বর ) রাতে জমিতে গিয়ে গাছগুলো কাটা পড়ে থাকতে দেখেন ভুক্তভোগী কৃষক। ঘটনাটি ঘটেছে কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের চন্দ্রলাড়া গ্রামের  কৃষক মঞ্জিল মিয়ার জমিতে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মঞ্জিল মিয়া জানান,প্রায় ২০ শতক নিজের জমিতে প্রায় ১৫০ লাউটি ও সাথী ফসল হিসেবে ১৫০ শিমটি গাছের চারা লাগিয়ে ছিলেন। ইতিমধ্যে লাউ গাছে ফুল ও ফল ধরেছে। 
তার আশা ছিলো এ বছর শুধু লাউ বিক্রি করে পাবেন লাখ টাকা । তিনি আরো বলেন, আমার আর কোন ফসলি জমি নেই। সারাবছর এই জমিতে বিভিন্ন ধরণের সবজী চাষ করে সংসার চালাতেন। তার এই কাজে স্ত্রী বেগম আক্তার সহায়তা করতেন। রোববার সন্ধ্যায় লাউ ক্ষেত পরিচর্যা করে বাড়িতে যান। রাতে আবার ক্ষেতে গিয়ে দেখে কয়েকটি লাউ ও শিম গাছ কাটা। পরে সকাল বেলায় দেখেন ক্ষেতের সমস্ত গাছেই কেটে ফেলেছে। মঞ্জিল মিয়া আরো বলেন, দ্বার-দেনা করে এই ফসল করেছিলাম। এখন এই ক্ষতি কেমনে পোষাবেন বলে স্বামী-স্ত্রী হাউ-মাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।  কান্নাজড়িত কন্ঠে ভুক্তভোগী এই দম্পতি বলেন, বিভিন্ন মামলা-হামলা করে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে  গ্রামের প্রতিপক্ষ হুমায়ুন মিয়া গংরা। গত কয়েকদিন আগেও মঞ্জিল মিয়ার ঝাড়ের বাশঁ কেটে নিয়ে গেছে হুমায়ুন গংরা। তারা আরো বলেন, তাদের নাম আপনাকে বলেছি
আপনি চলে গেলে হয়তো আমাদের ওপর তারা হামলা চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই দম্পতী। কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও গড়াডোবা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান সোহাগ বলেন, খবর পেয়ে আমি গিয়েছিলাম। এটা নিন্দনীয় কাজ। শত্রুতা বসত ঃ এই ন্যাক্কাজনক কাজটি করে শত শত মানুষের রিজিক নষ্ট করা ঠিক হয়নি। যারা এই কাজটি করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবী জানান তিনি। কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ জাহান কবীর বলেন, এ ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এই ক্ষতি শুধু কৃষকের একার না এলাকার ও রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে।
কেন্দুয়া থানা ওসি (তদন্ত)  সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি সহায়তা  প্রদান করা হবে।