কেন্দুয়ায় স্বামী পরিত্যাক্তা এক নারীকে ধর্ষনের অভিযোগ

কেন্দুয়ায় স্বামী পরিত্যাক্তা এক নারীকে ধর্ষনের অভিযোগ

কেন্দুয়া প্রতিনিধি : মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামী পরিত্যাক্তা ২২ বছরের এক নারীকে ধর্ষনের অভিযোগে কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের ইউপি মেম্বার হানিফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১)/ ৩০ ধারা মোতাবেক একটি মামলা দায়ের করা হয়। ক্ষতিগ্রস্থ ওই নারীর মা বাদী হয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে এ মামলাটি দায়ের করেন। একই মামলায় ধর্ষনের কাজে সহযোগিতার জন্য উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের মাইজকান্দি গ্রামের মৃত নূর হোসেনের স্ত্রী ললিতা খাতুনকেও আসামী করা হয়েছে। 
    প্রায় দুই বছর আগে বলাইশিমুল ইউনিয়নের ভরাপাড়া গ্রামের ওই নারীর বিয়ে হয় একই উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বান্দনাল গ্রামের বাবুল মিয়ার সঙ্গে। কিছুদিন ঘর সংসার করার পর স্বামী স্ত্রীতে বনিবনা না হওয়ায় মানসিক ভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে যায় ওই নারী। পরে চলে আসেন তার বাবার বাড়িতে। বাবার বাড়িতে আসার পর সুন্দরী ওই নারীর উপর কুনজর পরে ইউপি মেম্বার হানিফের। 
    ক্ষতিগ্রস্থ নারীর মা অভিযোগ করে বলেন, আমি ভিক্ষাবৃত্তি কাজে বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে হানিফ মেম্বার মাইজকান্দি গ্রামের ললিতা খাতুনকে দিয়ে আমার কন্যাকে ফুসলিয়ে ললিতাদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং হানিফ মেম্বার ললিতার সহায়তায় তার কন্যাকে  ধর্ষন করে। হানিফ মেম্বার ও ললিতা বিষয়টি থানা না জানাতে নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে ঘটনাটি চাপা দিতে ভিক্ষুক নারীর হাতে কিছু টাকাও দেয়। 
    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের এস.আই সামেদুল হক জানান, ধর্ষনের ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ নারী ও তার মা ধর্ষনের দিন ক্ষন বলতে পারছেন না। তবে ধর্ষনের পর মেয়েটি আরো বেশি মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পরায় তাকে শিকল দিয়ে বেঁেধ আটকে রাখার বিষয়টি তদন্তে বেড়িয়ে আসে। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে হানিফ মেম্বার ও ললিতা খাতুন পলাতক রয়েছেন। এদিকে রোববার ক্ষতিগ্রস্ত নারীর ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি গ্রহনের জন্য তাকে হাজির করা হবে। ক্ষতিগ্রস্থ নারীর মাকে হানিফ মেম্বারের পক্ষ থেকে টাকা দেয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান।