শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ ! মদনে নদী ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধে ফাটল

শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ ! মদনে নদী ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধে ফাটল

ফয়েজ আহম্মদ হৃদয়, মদন থেকে মগড়া নদীর ভাঙন রোধ বাঁধের নিরাপত্তা পিলার অপরিকল্পিত পরিকল্পনায় তৈরি করায় নির্মাণ কাজ  শেষ হতে না হতেই পিলারে ফাটল ধরে রড ভেঙে বাঁধটি নদীতে ঝুলে পড়েছে। যে কোনো মুহুর্তে বাধটি ধ্বসে নদী গর্ভে বিলীন হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঠিকাদার প্রকৌশল বিভাগের লোকজন বলছেন, বাধের প্রাক্কলনে ডিজাইন দুর্বল হওয়ায় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে স্থানীয় জনসাধারণ বলছেন, সিডিউলে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঠিকাদার তড়িগড়ি করে দায়সারা গোছের নি¤œমানের কাজ করায় কয়েকটি খুটিতে ফাটল ধরে রড ভেঙে বাধটি ঝুলে পড়ায় বাধ নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, মগড়া নদীর ভাঙন রোধকল্পে রাস্তা রক্ষনাবেক্ষণ (এলজিইডি) প্রকল্পের আওতাধীন শ্রীধরপুর থেকে বালালী বাজার পর্যন্ত মগড়া নদীর পাড়ে কিলোমিটার রাস্তাসহ ১৬৫ মিটার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ কাজে ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। নেত্রকোণার ঠিকাদার শ্যামল চন্দ্রসাহা ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে উক্ত প্রকল্প কাজের কার্যাদেশ পান। ১৬ ফেব্রæয়ারি ২০১৯ ইং তারিখের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ থাকলেও ঠিকাদার যথাসময়ে কাজ বাস্তবায়ন না করে বিলম্বে তড়িগড়ি করে নি¤œমানের কাজ করছেন। নিয়ম অনুযায়ী খুঁটি না পুতে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করায় এবং সিমেন্ট না দিয়ে শুধু বালিভর্তি গানিব্যাগ দেয়ায় কাজ শেষ হতে না হতেই দেয়াল ফেটে রড ভেঙে নদীতে ঝুলে পড়েছে। যেকোন মূহুর্তে এটি ধ্বসে নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

থানীয় ব্যবসায়ী হক মিয়া,কামাল মিয়া,সোহেল মেম্বার,হুমায়ন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা মিঞা মোঃ জুলফিকার, নয়ন মিয়া অভিযোগ করে বলেন,ঠিকাদার সময় মতো পরিকল্পিত পরিকল্পনা কাজ শুরু না করে হঠাৎ তড়িগড়ি করে নামে মাত্র পিলার পুতে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করায় এবং এর পাশে সিমেন্টের সাথে বালি না  মিশিয়ে  শুধু বালি ভর্তি  বস্তা দিয়ে  প্রতিরক্ষা দেয়াল নিমার্ণ করায় বাধে ব্যাপক ফাটল ধওে রড ভেঙে ঝুলে পড়ায় এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চি হয়ে পড়েছে। পিলার ভাঙ্গার পর বাধের উঁচু জায়গায় গত দু-দিন ধরে সিমেন্ট মিশ্রিত বালুর বস্তা দিচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন। বাধটির স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হলে নদীর পাড়ে সিসি ø স্থাপন করার দাবি জানান তারা।

উক্ত প্রকল্প কাজের ঠিকাদারের অংশীদার প্রবীর বাবু মোবাইল ফোনে জানান,ডিজাইন দূর্বল হওয়ায় প্রতিরক্ষা  দেয়ালে ফাটল ধরে ভাঙন ধরেছে। তবে আমরা সিডিউল মোতাবেক কাজ বাস্তবায়ন করছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। ভাঙনের জায়গাটি সংস্কারসহ সিমেন্ট ছাড়া শুধু বালি ভর্তি গানিব্যাগ গুলো সড়িয়ে ফেলা হবে।  কিন্তু প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করলেও পর্যন্ত কাজের কোন বিল পাইনি।

মদন উপজেলা প্রকৌশলী আমিনূল ইসলাম মৃদা জানান ,মগড়ানদী খননের পূর্বে কাজের প্রাক্কলন তৈরি করায় ডিজাইন দূর্বল হয়।  যার কারণে কাজের সমস্যা সৃষ্টি হয়ে বাধটি ঝুঁিকপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঠিকাদার কে কাজটি সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে। কাজ শেষ না করলে কোন বিল দেয়া হবে না।