জেলা প্রশাসক ও ইউএনও এঁর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা কেন্দুয়ার বগাজান বিল মুক্ত না হলে যে কোন সময় সংঘর্ষের আশংকা

জেলা প্রশাসক ও ইউএনও এঁর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা কেন্দুয়ার বগাজান বিল মুক্ত না হলে যে কোন সময় সংঘর্ষের আশংকা

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা কেন্দুয়া প্রতিনিধি : নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বগাজান বিলকে দখলমুক্ত করার বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকদের মধ্যে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে, আশংকা করা হচ্ছে। কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের জুড়াইল গ্রামের পাশে অবস্থিত বগাজান বিলটি মুক্ত জলাশয় হলেও গ্রামের ইউপি মেম্বার, সেলিম আহম্মেদ ও ছোটন মিয়ার ছত্রছায়ায় কতিপয় প্রভাবশালীদের অনেকেই বিলটি নিজেদের দখলে নিয়ে ইচ্ছেমত ভোগ দখল করছে। অভিযোগ রয়েছে তারা বর্ষা মৌসুম সহ সারা বছর ওই বিলটিতে সাধারন মানুষকে বঞ্চিত করে মাছ ধরে থাকেন। এতে আশেপাশের জুড়াইল, বেজগাঁও ও কুমড়–রা গ্রামের সাধারন মানুষেরা ওই বিলে, স্বাধীন ভাবে, মাছ ধরতে না পারায় দখল মুক্ত জলাশয়ে স্বাধীনভাবে মাছ ধরার দাবীতে গত সপ্তাহে জুড়াইল বাজারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে তারা বলেন, বিলের সরকারি ভ‚মি শ্রেনী পরিবর্তন করে, এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তা গ্রামের কতিপয় প্রভাবশালীর অনুকুলে বন্দোবস্ত দেয়। এর ফলে বিলটি তারা দখলে নিয়ে বামন খালি খালে মাটির বাঁধ দিয়ে মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে মাছ ধরে। এর ফলে আশেপাশের গ্রামের কৃষকদের বৈশাখ মাসে অনেক বোরো ফসল তলিয়ে গিয়ে ফসল হানি ঘটে। মধ্যবিত্ত কৃষকদের মাথায় পরে হাত। জুড়াইল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম ফারুখী, সিদ্দিক মিয়া ও ছাত্রনেতা আলমাস আহম্মেদ বলেন, শ্রেণি পরিবর্তন করে ইজারা দেয়া, ভ‚মির বন্দোবস্ত বাতিল করে সাধারন জনগনকে এই বিলে মাছ ধরা নিশ্চিত করতে হবে। না হয় এই বিল নিয়ে আশেপাশের গ্রামের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সঙ্গে বিলে মাছ ধরতে গেলে প্রভাবশালীরা যে অত্যাচার অবিচার করে এতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশংকা রয়েছে। তারা এ বিষয়ে প্রতিকারের জন্য নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক  ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন। রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মইন উদ্দিন খন্দাকার সূতি সাইডুলি নদী সহ বামনখালি খালে দিনভর অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ টাকার অবৈধ জাল আটক করেন। বিলের প্রসঙ্গ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিলে কোন অভিযান চালানো হয়নি। তবে জনগণের শান্তির জন্য বিধি মোতাবেক সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ইউপি মেম্বার সেলিম আহম্মেদ বলেন, বগাজান বিলটি উন্মুক্তই রয়েছে। এখানে সবাই মাছ ধরতে পারে। বন্দোবস্ত যারা এনেছেন সরকারের কাছ থেকেই এনেছেন। এখন সরকার যেটি  ভালো মনে করেন সেটি করলে আমাদের কোন আপত্তি নেই।